সূচকে ঊর্ধ্বমুখিতা

পুঁজিবাজা‌রে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ

দেশের পুঁজিবাজারে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে গতকাল সূচকে ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে।

এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি এদিন এক্সচেঞ্জটির দৈনিক লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই ঊর্ধ্বমুখী ছিল সূচক। দিন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৩১ দশমিক ২৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ২৮৫ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ৮ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১১ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন সামান্য বেড়ে ১ হাজার ৭৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৭৩ পয়েন্ট।

গতকাল সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, পূবালী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ার।

ডিএসইতে গতকাল ৬০৩ কোটি ৮১ লাখ ৪৮ হাজার টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৪৯২ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সে হিসাবে একদিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ২২ দশমিক ৬১ শতাংশ। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৯০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৪১টির, কমেছে ১০২টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৪৭টির।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গতকাল লেনদেনের শেষ দিকে কম দামের শেয়ার ক্রয়ের প্রবণতা দেখা গেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ঘিরে অনিশ্চয়তা থাকায় সামগ্রিক বাজার মনোভাব দুর্বলই ছিল। দিনের বেশির ভাগ সময় সূচক ওঠানামা করেছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনতে–ও বিক্রি করতে দুদিকেই সক্রিয় ছিলেন। তবে শেষ ঘণ্টায় ক্রেতা বাড়ায় বেশির ভাগ শেয়ারের দাম ঊর্ধ্বমুখি হয়ে ওঠে।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে প্রকৌশল খাত। ১২ দশমিক ৭ শতাংশ দখলে নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত।

ব্যাংক খাত ১১ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ৮ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল বস্ত্র খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা মিউচুয়াল ফান্ড খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

গতকাল ডিএসইতে তিনটি খাত বাদে বাকি সব খাতের শেয়ারেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে। এছাড়া সাধারণ বীমা খাতে ৩ দশমিক ১ ও জীবন বীমা খাতে ২ দশমিক ৮ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল। এছাড়া ডিএসইতে গতকাল সবচেয়ে বেশি ১ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে সেবা ও আবাসন খাতে। এছাড়া টেলিযোগাযোগ খাতে দশমিক ৭ ও সিমেন্ট খাতে দশমিক ২ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ১৬ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ১০২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ৩৮ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৮৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ১৭৪ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৯৩টির, কমেছে ৬৪টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ১৭টির। গতকাল সিএসইতে ২০ কোটি ৭ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

আরও